জুতো শুধু পোশাকের পরিপূরক নয়, শরীরের ভারসাম্য ও স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। ভুল মাপের বা অনুপযুক্ত জুতো দীর্ঘমেয়াদে পায়ের ক্ষতি ছাড়াও কোমর, পিঠ ও হাঁটুর ব্যথার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফিজিওথেরাপিস্টদের মতে, হাঁটার সময় শরীরের ভার প্রথমে গোড়ালিতে পড়ে, পরে পায়ের সামনের দিকে গড়ায় এবং শেষে আঙুল ঠেলে শরীরকে সামনে এগিয়ে দেয়। ভুল মাপের জুতো এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয় ও পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
গবেষণা বলছে, অনেকেই নতুন জুতোতে সামান্য অস্বস্তি উপেক্ষা করে মনে করেন, কয়েকদিন পর অভ্যস্ত হয়ে যাবেন-এই ধারণাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। এমন জুতো থেকে তৈরি হতে পারে বুনিয়ন, অর্থাৎ আঙুলের গোড়ার হাড় বেরিয়ে আসা, এমনকি নখেরও ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ভুল জুতো পরলে পায়ের ভেতরের অংশ বা গোড়ালি দ্রুত ক্ষয়ে যায়, যা অতিরিক্ত প্রোনেশনের লক্ষণ। এতে পা ভেতরের দিকে হেলে পড়ে, টিস্যুতে প্রদাহ হয় এবং ধীরে ধীরে কোমর ও পিঠে ব্যথা শুরু হয়।
সঠিক জুতো বাছাইয়ের পরামর্শ :
১. পায়ের গঠন ও নড়াচড়ার সঙ্গে মানানসই জুতো নিন।
২. ফ্ল্যাট জুতো হলে শক্ত মিডসোলযুক্ত ডিজাইন বেছে নিন।
৩. উঁচু খিলানযুক্ত পায়ের জন্য দরকার বাড়তি কুশনিং।
৪. চওড়া পায়ের জন্য প্রশস্ত টো-বক্স, সরু পায়ের জন্য টাইট-ফিট জুতো বেছে নিন।
৫. দিনের শেষে জুতো কিনলে ফিটিং সবচেয়ে নির্ভুল হয়, কারণ তখন পা কিছুটা ফোলা থাকে।
৬. নতুন জুতো পরে কিছুক্ষণ হাঁটুন, আরামদায়ক কি না যাচাই করুন।
৭. নিয়মিত জুতোর সোল, কুশন ও ফিটিং পরীক্ষা করুন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পা হলো শরীরের ভিত্তি। তাই পায়ের আরাম মানেই শরীরের সামগ্রিক স্বাচ্ছন্দ্য। সঠিক জুতো বেছে নেওয়াই হতে পারে ব্যথামুক্ত জীবনের প্রথম পদক্ষেপ।





